আয়নাবাজির বাজিমাত

আয়নাবাজি

“আর কতদিন বাবার হোটেলে খাইবি”-
কোনো বাবা তার মেয়ের বিয়ে প্রসঙ্গে এ কথাটি বললে তা কোনোভাবেই সুখকর নয়। কারন, মেয়েরা জামাইয়ের হোটেলে খাওয়ার জন্য বিয়ে করেনা। আর পরিবার মেয়েকে বোঝা মনে করারও কিছু নাই।

বর্তমানে নারীরা পরিবারে পুরুষের সমান বা তার বেশি অবদান রাখে। সুতরাং নারীরা পুরুয়ের উপর নির্ভরশীল নয়। তাই এমন বক্তব্য পরোক্ষভাবে লিঙ্গ বৈষম্য করা।
দুঃখজনক বিষয় হল এখনো গল্প বা ছবিতে সহজেই এধরনের সংলাপ দিতে দেখা যায়। যেমনটি ঘটেছে দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র আয়নাবাজিতে। শুধু তাই নয়, এরকম আরো কিছু সস্তা সংলাপ দিয়েছে অভিনেতারা।

সস্তা সংলাপ!
ছবিটির একজন পুলিশ কর্মকর্তা তার সক্ষমতা বা নিষ্ঠা বা সততা বোঝাতে গিয়ে বলেছেন “আমি বিসিএস সেকেন্ড”।
কথা হচ্ছে ৫ম, ১২তম বা ৯৯তম হওয়া বিসিএস কর্মকর্তা কি নিষ্ঠার সহিত দায়িত্ব পালন করেনা? একজন পুলিশ অফিসার তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কি এই পরিচয়ের কোনো প্রয়োজন আছে?

নেতিবাচক উপস্থাপনা
১. একজন সৎ সাংবাদিক মদ্যপানের দৃশ্য শুধুই নেতিবাচক ধারনা তৈরী করে। যার কোনো দরকার ছিলনা।
২. একজন ধনী বা বিত্তবান ব্যক্তি ধর্ষন করে অর্থের বিনিময়ে ছাড়া পেয়ে গেল। সমস্য হচ্ছে সেই ব্যক্তি ধর্ষিতার সামনে উপহাস করতে করতে চলে যায়। তখন মেয়েটির কষ্ট কোনো ভাবেই সহ্য করার মত না।
৩. চাকরি হারাবার ভয়ে পত্রিকার সম্পাদক গুরুত্বপূর্ন সংবাদটি ছাপাতে রাজি হননি। বাস্তাবে এমটি খুব কমই হয়। এধরনের দৃশ্য গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে।

সমাজের বাস্তব কিছু চিত্র তুলে ধরলেই কি চলচ্চিত্র নির্মান হয়? এসব বাস্তব চিত্র তুলে ধরার জন্য রয়েছে সংবাদ মাধ্যম বা গণমাধ্যম।

অভিনয়শিল্পীরা নিঃসন্দেহে চমৎকার অভিনয় করেছে। পরিচালকও অনেক বিজ্ঞব্যক্তি। তাদের জন্য শুভকামনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *